১লা সেপ্টেম্বর ,২০০৬, সন্ধ্যে ৭ টা-
শিলিগুড়ি বাস স্ট্যান্ড। আগের রাত টা অসাধারণ লেগেছে। কতরকমের মানুষ, তাদের কতরকমের কাজ-কর্ম। মন কে শুধু বোঝাচ্ছি, এই সব তোমার জন্য না শুভ, সামনে পরীক্ষা, এখন এসব ভেবনা। কে শোনে কার কথা! মন আর তখন কেমিস্ট্রি আর অঙ্ক বই তে নেই। সে তখন মাঝ-রাতের নেপালি ধাবা-র ক্লান্ত এক যাত্রী। যার কোনো দেশ নেই, কোনো জাত নেই.. সে শুধু চেনে রাত-জাগার নেশা, আর খোঁজে অচেনা রাস্তায়ে চেনা সব গন্ধ।
আর কয়েক মাস পর উচ্চ মাধ্যমিক। সারাদিন বই এ মুখ গুঁজে থেকে কাহিল অবস্থা। একে পরীক্ষার চিন্তা, তার সাথে কেমিস্ট্রি । উফফ!! এমন অবস্থায়, হঠাৎ, ডুয়ার্স যাওয়ার কয়েক দিন আগে বাবা বলল, "অনেক তো পড়লি , এবার আমার সাথে চল। চা বাগান থেকে ঘুরে আসবি।" আমি তো এক বাক্যে রাজি!! এতদিন পর ওই সব অকাজের ফর্মুলা আর ইকুয়েসন থেকে মুক্তির সুযোগ, কেউ ছাড়ে? বেরিয়ে পড়লাম বাবার সাথে, জানতাম না কোথায় যাচ্ছি, কেনই বা যাচ্ছি, শুধু বেরিয়ে পড়লাম।
৭ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬, রাত ৯ টা-
এখন কৃষ্ণনগর। একটা ছোট্ট ধাবা, রাস্তার ধারে। রাতজাগা বাস গুলোর প্যাসেঞ্জার, মাতাল, সাধারণ ছাপোষা মানুষ, এমনকি দু-একটা পাগল-ও , সবাই একজায়গায়ে। কোচিং আর স্কুল-এর বাইরের পৃথিবীটা আগে দেখিনি। পাগলদের সাথে রাত-জাগার নেশা বা ইচ্ছা, কোনোটাই আগে ছিলনা। এখন হল। বাবা বুঝতেও পারলনা, যে এই একটা রাত তার শান্ত-ভদ্র-ঘরকুনো 'ভালো' ছেলেটাকে বোহেমিয়া করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল।
৮ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ , সকাল ১০ টা-
শিলিগুড়ি বাস স্ট্যান্ড। আগের রাত টা অসাধারণ লেগেছে। কতরকমের মানুষ, তাদের কতরকমের কাজ-কর্ম। মন কে শুধু বোঝাচ্ছি, এই সব তোমার জন্য না শুভ, সামনে পরীক্ষা, এখন এসব ভেবনা। কে শোনে কার কথা! মন আর তখন কেমিস্ট্রি আর অঙ্ক বই তে নেই। সে তখন মাঝ-রাতের নেপালি ধাবা-র ক্লান্ত এক যাত্রী। যার কোনো দেশ নেই, কোনো জাত নেই.. সে শুধু চেনে রাত-জাগার নেশা, আর খোঁজে অচেনা রাস্তায়ে চেনা সব গন্ধ।
১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ , রাত ১ টা-
ঘুম আসছেনা। বাসে আমার কোনোকালেই ঘুম হয়না। তার ওপর আজ বাবা-ও সাথে নেই। আমি একা। এই কদিনে অনেককিছু হয়েছে। আমি আমার এক মামার বাড়ি তে ছিলাম। মামা-র মেয়ের এক বান্ধবির প্রেমেও পড়েছিলাম। কিন্তু এখন আর সেসব মাথা-এ নেই। শুধু ভাবছি কাল থেকে আবার সেই কোচিং, আবার মোটা মোটা গোমড়া-মুখো খাতা। আমি পারব তো আবার শান্ত হতে? সাধারণ জীবন যে আমার জন্য না, সেটা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছি। এবার ভয় লাগছে। আমি কি তবে বোহেমিয়া হয়ে গেলাম?
১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭, রাত ২ টো-
নাহ!! বোহেমিয়া হইনি। হতে পারিনি অনেকগুলো কারনে। কিন্তু তা বলে আর শান্ত-ও হতে পারিনি। আমি এখন বোলপুরে থাকি। এখানে পড়াশোনা করি। আর প্রায় রাতেই পালিয়ে আসি বোলপুর স্টেশনে। রাত্রের দুরপাল্লার ট্রেন গুলো কে দেখি, তাদের সাথে কথা বলি। অনেক দূর থেকে আসে ওরা, ক্লান্ত, কিন্তু ওদের গায়ে সেই চেনা-চেনা গন্ধটা পাই। যেটা একবছর আগে পেয়েছিলাম, শিলিগুড়ির রাস্তায়ে। আমি আর 'স্থির' হতে পারলাম না। কোনোদিন পারবো-ও না, জানি।
১৭ই মে, ২০১৪, রাত ২ টো -
আবার আজ শিলিগুড়ির রাস্তায়ে, সেই বাস, বহু বছর পর। বড় হয়েছি, কিন্তু বুড়ো হইনি। বন্ধুদের রীতিমত ভুল-ভাল বুঝিয়ে আরামের এ.সি স্লিপার কোচ ছেড়ে বাসে করে নিয়ে যাচ্ছি শিলিগুড়ি। গন্তব্য গ্যাংটক। উদ্দেশ্য একটাই, ৮ বছর আগে-র সেই না-ঘুমানো ধাবা গুলো কে যদি আরেকবার ছুঁতে পারি!! যদি অবশেষে তাদের বলে উঠতে পারি যে তাদের জন্যই আমি আবার ফিরে এসেছি, তাদের জন্যই আমার রাস্তায়ে নামা, আর তাদের জন্যই আমার কাছে 'অচেনা'রা আজ এত প্রিয়।
শিলিগুড়ি বাস স্ট্যান্ড। আগের রাত টা অসাধারণ লেগেছে। কতরকমের মানুষ, তাদের কতরকমের কাজ-কর্ম। মন কে শুধু বোঝাচ্ছি, এই সব তোমার জন্য না শুভ, তুমি এখন বড় হয়েছ, এখন এসব ভেবনা, সামনে অনেক কাজ। কিন্তু কে শোনে কার কথা! মন আর তখন অফিসের ওই ডেস্ক-এ নেই। সে তখন মাঝ-রাতের নেপালি ধাবা-র ক্লান্ত এক যাত্রী। যার কোনো দেশ নেই, কোনো জাত নেই.. সে শুধু চেনে রাত-জাগার নেশা, আর খোঁজে অচেনা রাস্তায়ে চেনা সব গন্ধ।
সে বোহেমিয়া হয়েত হতে পারেনি, কিন্তু চেনা ছকে থেকেও বহুবার শিকড় ছিঁড়ে পালিয়েছে, আর এতদিনে এটাও বুঝে গেছে যে, সুযোগ পেলে সে আবার পালাবে।
১৭ই মে, ২০১৪, রাত ২ টো -
আবার আজ শিলিগুড়ির রাস্তায়ে, সেই বাস, বহু বছর পর। বড় হয়েছি, কিন্তু বুড়ো হইনি। বন্ধুদের রীতিমত ভুল-ভাল বুঝিয়ে আরামের এ.সি স্লিপার কোচ ছেড়ে বাসে করে নিয়ে যাচ্ছি শিলিগুড়ি। গন্তব্য গ্যাংটক। উদ্দেশ্য একটাই, ৮ বছর আগে-র সেই না-ঘুমানো ধাবা গুলো কে যদি আরেকবার ছুঁতে পারি!! যদি অবশেষে তাদের বলে উঠতে পারি যে তাদের জন্যই আমি আবার ফিরে এসেছি, তাদের জন্যই আমার রাস্তায়ে নামা, আর তাদের জন্যই আমার কাছে 'অচেনা'রা আজ এত প্রিয়।
১৭ই মে, ২০১৪ , সকাল ৮ টা-
শিলিগুড়ি বাস স্ট্যান্ড। আগের রাত টা অসাধারণ লেগেছে। কতরকমের মানুষ, তাদের কতরকমের কাজ-কর্ম। মন কে শুধু বোঝাচ্ছি, এই সব তোমার জন্য না শুভ, তুমি এখন বড় হয়েছ, এখন এসব ভেবনা, সামনে অনেক কাজ। কিন্তু কে শোনে কার কথা! মন আর তখন অফিসের ওই ডেস্ক-এ নেই। সে তখন মাঝ-রাতের নেপালি ধাবা-র ক্লান্ত এক যাত্রী। যার কোনো দেশ নেই, কোনো জাত নেই.. সে শুধু চেনে রাত-জাগার নেশা, আর খোঁজে অচেনা রাস্তায়ে চেনা সব গন্ধ।
সে বোহেমিয়া হয়েত হতে পারেনি, কিন্তু চেনা ছকে থেকেও বহুবার শিকড় ছিঁড়ে পালিয়েছে, আর এতদিনে এটাও বুঝে গেছে যে, সুযোগ পেলে সে আবার পালাবে।
ager duto er cheye eta amar besh legeche...by the way carry on..let me know you from the beginning :)
ReplyDeleteyou know me from the beginning.. but still, there are different shades of me which you may not know still. :)
Deletesurreal..
ReplyDeletethanks dear :)
Delete